পেছাতে পারে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা
- আপডেট : ১১:০০:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
- / 2
২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বা সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্তের পর বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা যাতে চলতি শিক্ষাবর্ষেই উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ পান, সে বিবেচনায় ভর্তি পরীক্ষা পেছানোর বিষয়ে প্রাথমিকভাবে সম্মতি জানিয়েছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে কত দিন পরীক্ষা পেছানো হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ‘এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬-এর উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন এবং সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা গ্রহণ সংক্রান্ত’ ওই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অধীন বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের চলতি শিক্ষাবর্ষে উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করতে ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি পেছানোর জন্য উপাচার্যদের অনুরোধ জানান শিক্ষামন্ত্রী। শুরুতে কয়েকজন উপাচার্য এ প্রস্তাবে দ্বিমত পোষণ করলেও পরে প্রাথমিকভাবে সম্মতি দেন।
বৈঠকে উপস্থিত এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মেডিকেলসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা পেছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে কত দিন পরীক্ষা পেছানো হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। পরে সংশোধিত সময়সূচি জানানো হবে।
৪ ডিসেম্বর মেডিকেল, ৫ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা
এরই মধ্যে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার প্রাথমিক সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। সূচি অনুযায়ী, আগামী ৪ ডিসেম্বর সারা দেশে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। পরদিন ৫ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ পরীক্ষার ফল প্রকাশ এবং উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করতে এসব পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিশেষ পরীক্ষায় সুযোগ পাচ্ছেন চার লাখের বেশি শিক্ষার্থী
এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রায় ছয় লাখ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। পাসের হার ছিল ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ, যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বিশেষ বা সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে সরকার। প্রথমবারের মতো চার লাখের বেশি শিক্ষার্থী এ সুযোগ পাচ্ছেন।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বিশেষ পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে। একই মাসের শেষ দিকে ফল প্রকাশের লক্ষ্য রয়েছে। ফল প্রকাশের পর উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা যাতে চলতি শিক্ষাবর্ষেই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পান, সে লক্ষ্যেই ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে এসেছে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় শিক্ষার্থীরা
বৈঠকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সব মিলিয়ে বিশেষ পরীক্ষার সিদ্ধান্তের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রচলিত সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নির্ধারিত তারিখগুলো বহাল রয়েছে বলেই বিবেচনা করতে হবে।
















