আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
সিনেটে জোর লড়াই হবে
- আপডেট : ১০:৩৭:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
- / 10
সিএনএন, ফক্স নিউজ মিডিয়া প্রায়শই একই ইস্যুতে ভিন্ন ভিন্নভাবে পক্ষপাতিত্ব করে খবর উপস্থাপন করে। আদর্শগত মতবিরোধ বুঝতে গবেষণা করতে হয় না তেমন নিবিড়ভাবে। এমনকি, এ দেশে খোদ প্রেসিডেন্টও বলেন, সিএনএন ফেক অর্থাৎ ভুয়া খবর পরিবেশন করে। ফক্স নিউজের খবরে যে পক্ষপাতিত্ব, তা মূলত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর দলের কর্মসূচির গুণগান করা। তারপরও এদিক-সেদিক হলে প্রেসিডেন্ট গালমন্দ করেন। বর্তমান সময়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের তথ্য ও বিশ্লেষণ নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করতে এ দুটো চ্যানেলই দেখা জরুরি হয়ে পড়ে।
নির্বাচনের পূর্ব রাতের খবরে সিএনএন বলছে, ডেমোক্র্যাট দল নিশ্চিতভাবে হাউস এবং সিনেট দুই চেম্বারেই জয়ী হবে। হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে বর্তমানে ডেমোক্র্যাট দল ২১৪ আসনে এবং রিপাবলিকান দল ২১৯ আসনে সমাসীন আছে। ইনডিপেনডেন্ট আছেন দুজন প্রতিনিধি। ২০২৬ মধ্যবর্তী নির্বাচনে সব আসনেই ভোট হবে। ৪৩৫ আসনে ডেমোক্র্যাট দলকে কমপক্ষে ৪টি আসন পেতে হবে, যা বর্তমান ২১৫ ঠিক থাকলে ২১৯-এ দাঁড়াবে। অর্থাৎ, হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস রিপাবলিকানদের হাতে থাকবে না। স্পিকার হবেন জনসনের স্থলে ডেমোক্র্যাট একজন। খুব সম্ভবত বর্তমানে মাইনরিটি দলের নেতা জেফ্রিস। পণ্ডিতদের ধারণা, এ কক্ষে ডেমোক্র্যাটরা জিতে নেবে।
সিনেটে জোর লড়াই হবে। বর্তমানে ডেমোক্র্যাটরা ৪৭টি আসন নিয়ে সংখ্যালঘিষ্ঠ দল হিসেবে আছে। রিপাবলিকান আসন এখন ৫৩ (২ জন ইনডিপেনডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রয়োজনে ভোট দিতে পারেন)। ২০২৬ মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলের কমপক্ষে ৪টি আসনে জয়ী হলেই তবেই সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা আসবে। আজ রাতেই জানা যাবে কারা সিনেট দখলে নিচ্ছে।
অবস্থাদৃষ্টে অনুমান করা যায় যে ঐতিহ্যের রেশ ধরে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তাঁর দল হেরে যাবে। তিনি ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে হারলেও অসুবিধে নেই। তাঁর হাতে ভেটো ক্ষমতা আছে। এক্সিকিউটিভ নির্দেশ জারি অব্যাহতভাবে চলবে। তিনি কংগ্রেসের থোড়াই তোয়াক্কা করেন। গ্যাসোলিনের দাম কমিয়ে আনা তেমন কোনো অসাধ্য ব্যাপার নয়। ইরান যুদ্ধ এক লহমায় শেষ করে দিতে পারেন। এতসব বাগাড়ম্বরের সঙ্গে রাশিয়ার পুতিনের সঙ্গে সদ্ভাব তাঁকে অজেয় পর্যায়ে নিয়ে গেছে বলে তাঁর ধারণা। ভেনেজুয়েলাকে কুক্ষিগত করে তিনি জ্বালানি তেলের সমস্যা অনেকাংশেই সমাধান করে ফেলেছেন। অর্থ সমাগমের অনেক কৌশলের মধ্যে এ এক গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। রাখঢাক না করেই তিনি বলেন যে ব্যক্তিগত এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে অর্থনৈতিক সাফল্য হাতের মুঠোয় এসে গেছে। শুল্ক আরোপ কৌশল এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি এ ক্ষেত্রে গতিময় অবদান রাখছে। তবে, এআই এবং চরম কুশলী মাস্কের বিকাশ ও উল্লম্ফনে সঠিকভাবে লাগাম টানতে না পারলে ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা। বিপদের সামনে তিনি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মদদ দেবেন—এমন ধারণা উড়িয়ে ফেলে দেওয়া যায় না। যুদ্ধ বাঁধিয়ে ইমার্জেন্সির আশ্রয় নেওয়ার ইতিহাস নতুন কিছু হবে না।
বিশ্বের শান্তি আনতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগতপ্রায় রাজনৈতিক পরিবর্তন বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হোক—এ আশাবাদ রইল।















